সুপার গ্লু

সুপার গ্লু হলো আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপের সেই দৈত্যের মতো। প্রদীপ ঘষে বের করে আনার পর সে অসাধ্য সাধন করতে পারে, এর আগে নয়। অবশ্য সুপার গ্লু রূপকথা না হলেও একটা বিষয়ে মিল আছে। টিউবের ভেতরে থাকলে কাজ করতে পারে না, বাইরে এলে বাজিমাত! সে ভাঙা কাচ, প্লাস্টিক, কাঠ—সব জোড়া লাগাতে পারে। মাত্র এক বর্গইঞ্চি জায়গায় সুপার গ্লুর হালকা প্রলেপ এক টনের বেশি ওজন ধরে রাখতে পারে। তার এই অসাধারণ শক্তির কারণ হলো এর মধ্যে ‘সায়ানোঅ্যাক্রিলেট’ নামের এক রাসায়নিক তরল। এটি পানি ছাড়া কোনো কিছু জোড়া লাগাতে পারে না। টিউবের ভেতর বায়ু ও পানিশূন্য অবস্থায় একে ঢুকিয়ে ভালোভাবে মুখ আটকে দেওয়া হয়। তাই পানি না পেয়ে সে টিউবের ভেতরের গায়ের সঙ্গে জোড়া লাগতে পারে না। বাইরে বেরিয়ে বাতাসের মধ্যে থাকা জলীয়বাষ্পের সঙ্গে মিশে সে তার কাজ শুরু করে দেয়। হালকা প্রলেপ বেশি কার্যকর, কারণ সামান্য জলীয়বাষ্প লাগে, কাজ হয় চটপট। একটু ফুঁ দিলে আরও তাড়াতাড়ি কাজ হয়। সামান্য আঠা বের করেই টিউবের মুখটা খুব দ্রুত বন্ধ করে দিলে ভেতরে বাতাস ঢুকতে পারে না। ফলে, সে টিউবের ভেতরের গায়ে জোড়া লাগে না। কিন্তু সাধারণ আঠা অন্য রকম। ওর মধ্যে পানি থাকে বলে সে কৌটা বা টিউবের ভেতরের গায়ে জোড়া লাগে না। কোনো ছেঁড়া কাগজে মেশানোর পর পানি শুকিয়ে গেলে জোড়া লাগে।


Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started