
পার্সিভিয়ারেন্স রোভারটি মূলত পাঠানো হয়েছে মঙ্গলের একটি হ্রদ অঞ্চলে যা এখন পানিশূন্য এবং ইয়েজেরো/জেজেরো (Jezero) গর্ত নামে পরিচিত। বর্তমানে মঙ্গলের পরিবেশ ও আবহাওয়া পৃথিবীর উপযোগী প্রাণ ধারণের অনুপযোগী হলেও কোটি কোটি বছর আগে পরিবেশ এমন ছিল না। তাই তখন এখানে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কিনা বা থাকলে কেমন ছিল তা নিয়ে খোঁজ করাই এই রোভারের প্রধান মিশন।

আর এই মিশনে প্রধানত ক্ষুদ্র জীবাণুর খোঁজ করা হবে মাটি খুঁড়ে তা পর্যালোচনা করে। এখানে যেহেতু আগে পানি ছিল তাই প্রাণের নমুনা থাকার সম্ভাবনা (যদি কখনও প্রাণ থেকে থাকে) এখানে বেশি বলে ধরে নেয়া হয়েছে। নিচে ওই হ্রদের কাল্পনিক ছবি দিচ্ছি

এই মিশনের আরও একটি বড়ো কাজ হচ্ছে মঙ্গলে অক্সিজেন উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো। এবার নাসার গবেষকরা কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে তথা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন উৎপাদনের একটি প্রযুক্তি (যার নাম মক্সি) এই রোভারে করে পাঠিয়েছেন, যা মঙ্গলে টেস্ট করে দেখা হবে এবং এটা সফল বা আশানুরূপ ফল দিলে ভবিষ্যতের মানব অভিযান অনেক সহজ হয়ে যাবে। নিচে মক্সির ছবি দিচ্ছি

এই মিশনে আরও একটি পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি হচ্ছে ইনজেন্যুইটি হেলিকপ্টার! মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল অনেক পাতলা বলে বাতাস নিচে ঠেলে হেলিকপ্টার আকাশে ওড়া খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। এজন্য হেলিকপ্টারের ব্লেডকে ঘুরতে হবে অনেক দ্রুত, এবং হতে হবে বেশ হালকা। এমন অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে গবেষকরা এই বিশেষ হেলিকপ্টার ডিজাইন করেছেন যা মঙ্গলে গিয়ে ওড়ার চেষ্টা করবে এবং এই ব্যাপারে দরকারি তথ্য পাঠাবে পৃথিবীতে। যা থেকে পরবর্তীতে আরও কার্যকরী হেলিকপ্টার নকশা করতে সাহায্য হবে।

এই রোভারের আরেকটি কাজ হবে মঙ্গলের মাটির নমুনা সংগ্রহ করে বিশেষ টিউবে সংরক্ষণ করে মঙ্গলের মাটিতে ছড়িয়ে রাখা যা পরের মিশনে আরেকটি রোভার সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফেরত পাঠাবে। এক্ষেত্রে এটি হবে মানুষের জন্য বিশাল একটা সফলতা। টিউবগুলো নিচের ছবির মত

এগুলো হচ্ছে পার্সিভিয়ারেন্স এর প্রধান মিশন। এসব ছাড়াও দরকারি ছবি তোলা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, শব্দ রেকর্ড এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক ধরণের সেন্সর রয়েছে এই রোভারে।

– তানজিল সরকার
Science lovers
